Bangla sms

সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সুন্দরীদের সঙ্গে সেলফি তুলতে খুব ভালবাসেন

সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে খুব ভালো লাগে বলে জানালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি বলেন, সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে ভাল লাগে। ‘তৃতীয় মাত্রা’র ঈদ আয়োজনে চ্যানেল আই ভবনে এসে চ্যানেল আই অনলাইনকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগে রাজনীতিকরা দেশ কন্ট্রোল করতো, আর এখন ছাত্ররা দেশ কন্ট্রোল করছে। নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে জীবন-যাপনে অভ্যস্ত ৮৫ বছর বয়সী এরশাদ পোশাক-আশাক বা গেটআপ সবকিছুতেই স্টাইলিস্ট। সবসময় হালফ্যাশনে চলতে পছন্দ করেন। গ্লামারাস লুক তার জন্মগত; সেটাকে নিজেই আরো আকর্ষণীয় করেছেন স্মার্টনেসে। রাজনীতিক নিয়ে দিনভর প্রচ- ব্যস্ত থাকার পরও ব্যক্তিজীবনে কীভাবে এত সুচারুভাবে জীবন-যাপন করছেন? পেছনের রহস্য কি? তার এখনকার ব্যক্তিগত জীবনই কেমন? তার পছন্দ-অপছন্দ? কি করে তিনি এই বয়সেও আকর্ষণের মধ্যমণি? পথে হাঁটতে গেলে তরুণ-যুবকরা এখনো তার কাছে হার মানেন? ব্যক্তিগত লাইফস্টাইল সম্পর্কেও বিস্তারিত জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ নিজেই। ইনকিলাবের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন : কেমন আছেন?

সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ : হ্যাঁ ভালো আছি।

প্রশ্ন : প্রথমেই আপনার কাছে জানতে চাই, এই বয়সেও এত সুন্দর কীভাবে আপনি?

এরশাদ : (হাসি) রুটিন মাফিক জীবন-যাপন করি তাই হয়তো। প্রশ্ন : সকালটা কীভাবে শুরু হয় আপনার? এরশাদ : আমি প্রতিদিন ভোর ৫টায় ঘুম থেকে উঠি। এরপর কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করার পর আমার জিম ট্রেইনার আসে। তার কাছে জিম করি। জিম করার পর গোসল করে নিই। এরপর গ্রিন টি খাই আর খবরের কাগজ পড়ি। সকালের নাস্তা বিভিন্ন ফুরুটস দিয়ে করে থাকি। সঙ্গে থাকে পাউরুটি, ওমলেট আর দুধ। আসলে খাবার আমি খুব পরিমাণ মতো (অল্প) খাই। এরপর বাসায় একটা জায়গায় বসি। বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ আসে তাদের সুপারিশ নিয়ে। আমার যতটুকু সামর্থ্য আছে ততটুকু দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি। পার্টির কর্মীরাও আসে, বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। প্রতিদিন এত লোক সমাগম হয় বলে আমার ছেলে এই বাড়ির নাম দিয়েছে সুপারিশ বাড়ি। এভাবেই প্রতিদিন সকালের পর্বটা শেষ করি।

সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ

প্রশ্ন : দুপুরের মেনুতে কোন ধরনের খাবার থাকে?

এরশাদ : আমরা যেহেতু বাঙালি তাই বাঙালি খাবারের আইটেমই ভালো লাগে বেশি। রংপুরে একটি সুস্বাদু খাবার আছে আলুর ডাল। এই খাবারটা রংপুরবাসীর খুব পছন্দের খাবার। সেই খাবারটি বেশি থাকে। এছাড়াও বেগুন ভর্তা, বিভিন্ন মাছের আইটেম দিয়ে দুপুরের খাবার খাই। আমার মাছ খুব পছন্দের খাবার। যে কোনো মাছই আমার খুব ভালো লাগে।

প্রশ্ন : কোন খাবারটি এখন আপনি আর খান না?

এরশাদ : বয়স হয়েছে তাই মাংস বা মাংস দিয়ে তৈরি খাবার খুব বেশি খাই না বললেই চলে। তাই বিয়ে বাড়িতে যেতে আমার ভালো লাগে না। তবে গেলেও কোনো খাবার খাই না। এত পরিমাণ তেল-মসলা থাকে যে খাবারকে বিষ মনে হয়। অবশ্য বিয়ে বাড়িতে গেলে অনেক ছবি তোলা হয়। এখন তো আবার সেলফির যুগ।

প্রশ্ন : আপনার সেলফি তুলতে ভালো লাগে না?

এরশাদ : হ্যাঁ, সেলফি তুলতে আমার ভালো লাগে। বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে সেলফি তুলতে আমার খুব ভালো লাগে। যেখানেই আমি যাই না কেন মেয়েরা আমার সঙ্গে সেলফি তুলে। আমারও বেশ ভালো লাগে। ব্যাপারটা উপভোগ করি।

এরশাদ : বিকেলটা কীভাবে কাটে?

এরশাদ : বিকেলে সাধারণত তেমন কোনো কাজ থাকে না। আমার ছেলে এরিক এরশাদ গান গায়। ওর চারটি অ্যালবাম বাজারে এসেছে। বিকেলে বসে ছেলের গান শুনি। আর আমার ছেলে তো মান্না দের অনেক ভক্ত। ওনার গানও শোনা হয়। এছাড়া পুরনো দিনের সব শিল্পীর গান শুনতে পছন্দ করি।

প্রশ্ন : আপনার রাতের খাবারের মেন্যুতে কি থাকে?

এরশাদ : রাতে একটি রুটি খাই। আর ছেলের সঙ্গে রাতে গল্প করতে হয় বলে প্রতিদিন রাত ১১টায় ঘুমাতে যাই।

প্রশ্ন : এখনো আপনি গলফ খেলেন?

এরশাদ : সপ্তাহে দুইদিন গলফ খেলি। শুক্রবার ও শনিবার জিম ট্রেইনার আসে না, সেই দুইদিন আমার কিছু ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সঙ্গে গলফ খেলি।

প্রশ্ন : বাইরের কোন খাবারটি আপনার বেশি পছন্দের?

এরশাদ : সাধারণত বাইরের দামি খাবার ছাড়া আমি কিছু খাই না। বিফ স্টেকটা আমার পছন্দের খাবার।

প্রশ্ন : পোশাকের তালিকায় আপনার বিশেষ পছন্দ কোনটি?

এরশাদ : পোশাকের মধ্যে স্যুট পরতে বেশি ভালো লাগে। এছাড়া কোনো অনুষ্ঠানে গেলে পাঞ্জাবি পরতে ভালো লাগে। রঙের ক্ষেত্রে নীল রঙটাই পছন্দ।

প্রশ্ন : আপনার কোনো নিজস্ব পোশাক ডিজাইনার আছে?

এরশাদ : একসময় ছিল। এখন নেই। বয়স হয়ে গেছে তো। তাই পোশাক ডিজাইনার লাগে না। আর বেশিরভাগ সময় উপহার পাই। এর বাইরে নিজে কিছু পছন্দ করে কিনি, এই দিয়েই হয়ে যায়।

প্রশ্ন : আপনাকে সবসময় স্যুটের সঙ্গে স্কার্ফ পরতে দেখি।

এরশাদ: কোনো রহস্য নেই। এটা আসলে সেনাবাহিনীতে থাকাকালীন সময়ে অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল। অভ্যাসটা ছাড়তে পারিনি। এখনো তাই স্যুটের সঙ্গে পরি।

প্রশ্ন : বর্তমানে রাজনীতির অবস্থা কেমন দেখছেন?

এরশাদ : রাজনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। আগে রাজনীতিকরা দেশ কন্ট্রোল করতো, আর এখন ছাত্ররা দেশ কন্ট্রোল করে। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে ছাত্রদের কাছে শিক্ষকরা লাঞ্ছিত হচ্ছে। একজন ছেলে মোবাইল চুরি করেছে বলে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে। দেশে যেন কোনো আইন নেই। যে যেভাবে পারছে; সে সেভাবে অপরাধ করে যাচ্ছে। তাই মনে করি মানুষের মধ্যে যতদিন মূল্যবোধ সৃষ্টি না হবে ততদিন দেশের মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে না।

সূত্র: দৈনিক ইনকিলাব