Bangla sms

শীতের অসুখ এড়ানোর উপায়

শীতের সময় যত রকম স্বাস্থ্য সমস্যা নতুন করে কাউকে বলার অপেক্ষা রাখেনা। যেমন ধরুন: নাকবন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া, গলাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের সমস্যা অন্যতম। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু স্বাস্থ্য সমস্যা আছে যেগুলো সারা বছরই একজন রোগীকে আক্রান্ত করে থাকে কিন্তু শীতে সেগুলোর তীব্রতা বাড়ে। এই ধরনের তীব্রতা বাড়া স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি, নাকের এলার্জি, টনসিলের প্রদাহ অন্যতম। তবে গেঁটে বাতের সমস্যাও বাড়ে শীতের সময়।

 

সে যাই হোক, শীতের সময় যে স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো মানুষকে বাড়তি কষ্টের মধ্যে ফেলে দেয়, সেগুলোর অধিকাংশেরই সূচনা হয় সকাল ও সন্ধ্যাবেলা। সকাল ও সন্ধ্যায় বিশেষভাবে আক্রান্ত হওয়ার কারণ হলো, সারাদিনের তুলনায় এই সময়টাতে তুলনামূলক ঠান্ডা পরিবেশ বিরাজ করে থাকে। তাছাড়া এই সময়ে লোকজনও এমন কিছু করে থাকে যে কারণে হঠাৎ করেই একজন ব্যক্তি নাকবন্ধ, নাক দিয়ে পানিপড়া, গলাব্যথা, কানব্যথা, কানবন্ধের সমস্যায় পতিত হয়। এবার দেখা যাক শীতের অসুখ এড়ানোর উপায় তথা কী কী ভুল কাজ করার ফলে একজন সুস্থ, সুখী মানুষ হঠাৎ অসুখের বেড়াজালে আটকা পড়ে যান।

শীতের অসুখ

 

  • শীতের মৌসুমে সকালে ঘুম থেকে ওঠার সময় অনেকেই হুট করে কোনরকম গরম কাপড়-চোপড় ছাড়াই বিছানা ছাড়েন। হঠাৎ এভাবে নিজেকে গরম পরিবেশ থেকে ঠান্ডায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি শরীর সামলাতে পারে না। ফলাফল, হাঁচি-সর্দি, কাশি।

 

  • এ ছাড়া বিছানা ছেড়ে নামার সময় অনেকে পাদুকা খুঁজে না পেয়ে খালি পায়ে শীতের সকালে কিছুটা সময় হাঁটতে থাকেন। এ ক্ষেত্রেও পরিণতি আগের মত একই।

 

  • শীতের সকালে অনেকেই ফজরের নামাজ পড়তে উঠে কিংবা ঘুম থেকে জেগে অযু কিংবা মুখ ধোয়ার জন্য ঠান্ডা পানি ব্যবহার করেন। এই ঠান্ডা পানি নাকে দেয়া মাত্রই কারো কারো নাকবন্ধ হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে শুরু হয় হাঁচি, যা চলতে থাকে সারা দিন কিংবা তার চেয়েও বেশি সময়।

 

  • শীতের দিনগুলোতে সারা দিন তেমন বিশেষ ঠান্ডা পরিবেশ না থাকার কারণে অনেকেই রাতের জন্য গরম কাপড় ও জুতো পরে বের হন না। ফলে দেখা যায় সন্ধ্যা নামতেই মাথাব্যথা, কানব্যথা, গলাব্যথা, হাঁচি শুরু হয়ে গেছে।

 

  • উল্লেখিত স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো যাদের রয়েছে, তাদের উচিত অক্টোবর-নভেম্বর থেকে এলার্জি প্রতিরোধক ওষুধ যেমন- মন্টিলুকাস্ট গ্রহণ করা শুরু করতে হবে। কারণ শীতের সকাল-সন্ধ্যার স্বাস্থ্য সমস্যাগুলো বেশিরভাগই এলার্জিজনিত। এ ছাড়া যাদের হাঁপানি রয়েছে তাদের স্টেরয়েড জাতীয় ইনহেলার ব্যবহার শুরু করতে হবে শীত আসার আগেই। তবে এইসব একজন নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ এবং ক্ষেত্র বিশেষে বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞের পরামর্শক্রমে গ্রহণ করা উচিত।

 

  • গলাব্যথা তা যে কারণেই হোক, উষ্ণ পানিতে লবণ দিয়ে দৈনিক ৩-৪বার গড়গড়া করার বিকল্প নেই।

 

শীতে সকাল ও সন্ধ্যায় বছরের অন্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি ঠান্ডা পরিবেশ থাকে। সেই ঠান্ডা পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে শরীরকে একটু সময় দিতে হবে। দরকার পড়লে সকালে অযু কিংবা মুখ ধোয়ার জন্য গরম পানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, দরকার পড়লে গরম পানি পান করতে হবে। নাকে ঠান্ডা পানি দেয়া যাবে না। পায়ে মোজা, বিশেষ ধরনের পাদুকা, গলায় গলা বন্ধনী, মাথায় ক্যাপ ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে।

 

এ দেশের মানুষ শাড়ি-লুঙ্গি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। কিন্তু শীতের পোশাক হিসাবে এগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। শীতের জন্য টাইটস কিংবা প্যান্টই উত্তম। আর শেষ কথা হলো, হঠাৎ করেই নিজেকে শীতের সকাল ও সন্ধ্যার ঠান্ডায় অরক্ষিত অবস্থায় মেলে ধরা যাবে না। নিতে হবে মাথা থেকে পা অব্দি শীত থেকে রক্ষার প্রস্তুতি। এই প্রস্তুতি হতে হবে সবার জন্য। তাহলেই দেখা যাবে, সামান্য ওষুধ গ্রহণ করেই সবাই শীতে ভালো আছেন অর্থাৎ এটাই হবে শীতের অসুখ এড়ানোর উপায়।

 

লেখক : ডা: সজল আশফাক, সহযোগী অধ্যাপক, নাক কান গলা বিভাগ, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা।