Bangla sms

ফেসবুকের অজানা তথ্য – ফেসবুকে যে ৫টি তথ্য কখনো দিতে নেই-আর মনে রাখুন ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮ নাম্বারটি

অনায়াসে স্বীকার করতে হয় যে, বর্তমান প্রযুক্তি যুগে ফেসবুক একটি অসাধারণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশের জনগণও তার থেকে ফিছিয়ে নেই। যদিওবা আমরা প্রতিনিয়ত ফেসবুক ব্যবহার করি, তারমধ্যেও এই ফেসবুকের অজানা তথ্য সম্পর্কে আমরা পুরোপুরি অবগত নই। আজকে আমি সে সম্পর্কে সামান্যতম আলোচনা করার আশায় বসলাম।

ফেসবুকের মাধ্যমে গোটা জীবনটাই আপনি শেয়ার করে ফেলেন। হয়তো যে বিষয়গুলো কখনোই অন্যদের জানাতে চান না তাই আপনার অসাবধানতায় প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। বন্ধুদের সঙ্গে যা শেয়ার করছেন, দেখা যাচ্ছে তার চেয়ে বেশি তথ্য অন্যরা পেয়ে যাচ্ছেন। এ ধরনের অস্বস্তিকর অবস্থা এড়াতে ৫টি তথ্য ফেসবুকে শেয়ার না করতে বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

১. ফোন নম্বর : বাড়ি অথবা ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ফেসবুক পেজে দেওয়া মানে প্রাঙ্ক কলার, স্টকার, স্ক্যামার এবং আইডেন্টিটি চোররা এ তথ্য চুরি করে নানা অঘটন ঘটাতে পারেন। এ ছাড়া আপনার ফোন নম্বর দিয়ে সার্চ করেও যে কেউ পেজ বের করতে পারবেন। নিরাপত্তা বিষয়ক এক্সপার্ট রেজা মোয়াইনদিন জানান, যে সব সোশাল মিডিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা খুব ভালো নয়, সে সব জায়গা থেকে মোবাইল নম্বর খুব সহজে চুরি হতে পারে।

২. বাড়ির ঠিকানা : সম্প্রতি ছুটি কাটাতে কোথায় গেছেন সে ছবিটি পর্যন্ত বিপদ ডেকে আনতে পারে। সেখানে বাড়ির ঠিকানা দেওয়াটা চরম বোকামির সামিল। ‘কন্টাক্ট অ্যান্ড বেসিক ইনফো’ অংশে এ তথ্য দিয়ে থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন। একে ‘এডিট’ করে ‘সেভ চেঞ্জেস’ ক্লিক করুন।

ফেসবুকের অজানা তথ্য

৩. পেশা সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য : আপনি কি কাজ করেন না করেন অথবা কোথায় করেন ইত্যাদি তথ্য ফেসবুকে দেবেন না। আপনার অফিস বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরিজীবী খুঁজতে গিয়ে আপনার এমন কোনো তথ্য বা ছবি পেতে পারেন যা হয়তো তাদের পছন্দ হবে না। এগুলো পেশাজীবনে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। যদি তথ্য দিয়েই থাকেন তবে ফেসবুকের টাইমলাইন টুলস ব্যবহার করে স্ক্যান দিন। আপনার আগের পোস্টগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পেশাগত কোনো তথ্য থাকলে তা সরিয়ে ফেলুন।

৪. সম্পর্কের স্ট্যাটাস : সম্পর্ক জীবনের ব্যক্তিগত বিষয়। এগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়ার স্থান ফেসবুক নয়। এতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং সামাজিক জীবনে নানা টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এগুলো নিয়ে যে কেউ নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারেন। তাই সম্পর্ক নিয়ে অহরহ স্ট্যাটাস দেবেন না।

৫. অর্থ সংক্রান্ত কোনো তথ্য : ফেসবুক বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু এখানে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা ক্রেডিট কার্ড নম্বর ইত্যাদি দিতে যাবেন না। হ্যাকারদের পাল্লায় পড়লে সর্বনাশ হয়ে যাবে। একবার এ সব তথ্য বাড়ির কম্পিউটারে বসে ব্যবহার করলেও অন্য কেউ ওই কম্পিউটারে বসেই তা ব্যবহার করে আরো অর্থ খরচ করতে পারেন।

মনে রাখুন ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮ নাম্বারটি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অংশ হয়ে গেছে। বন্ধু-বান্ধব বা পরিবারের সাথে সংযোগ স্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক। প্রতিদিন প্রতি ১২ সেকেন্ডে একজন করে নতুন ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার শুরু করেন। বাংলাদেশেও ব্যতিক্রম নয়। ফেসবুকে অপরাধ ঘটাও খুব নিয়মিত ব্যাপার। এই অপরাধ দমনের জন্যই সরকার ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮ নম্বরটিকে হেল্প লাইন করেছে।

জাতীয় সংসদে এই নম্বরটি যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো অপরাধ দমনের হেল্প লাইন, তা জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক। সামাজিক ফেসবুকে যে কোনো অপরাধ আপনার দৃষ্টিগোচর হলে সাথে সাথে এই নম্বরে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।

সরকার দলীয় সাংসদ নবী নেওয়াজ সংসদে অভিযোগ করে জানান, ফেসবুকে তার একটি পরিচয় রয়েছে। কিন্তু তার নামে আরো কিছু ভূয়া পরিচয়ও আছে। ফলে তিনি নানা রকম ঝুটঝামেলায় পড়েন। তিনি জানতে চান, এ থেকে বাঁচার কোনো উপায় আছে কিনা।

নবী নেওয়াজের কথার জবাবে ০১৭৬৬৬৭৮৮৮৮ নাম্বারটির কথা জানান পলক। একই সাথে তিনি জানান, এই নম্বরে অভিযোগের পরও যদি কোনো উপকার না পাওয়া যায়, তবে সরকারের সাইবার সিকিউরিটি ফোর্সের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

ধন্যবাদ সবাইকে …….. ভাললাগলে শেয়ার করুন।