Bangla sms

ফুসফুস ভাল রাখার উপায় জানুন – বিশেষকরে ধূমপায়ীরা

অনেকের প্রশ্ন বা অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা ফুসফুস সম্পর্কে নানা তথ্য জানার জন্য চার্জ করে থাকেন, যেমন ধরুন:- ফুসফুস সচল রাখার সহজ উপায় , ফুসফুস ভাল রাখার উপায় , ফুসফুস সুস্থ রাখার উপায়, ফুসফুস দূষণমুক্ত রাখার সহজ উপায় , ফুসফুস ভালো রাখার উপায় , ফুসফুসের যত্ন , ফুসফুসের কাজ , ফুসফুস ক্যান্সার , ফুসফুসে পানি , ফুসফুসের সমস্যা , ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষন , ফুসফুস ক্যানসার ইত্যাদি।

দূষণমুক্ত ফুসফুস! কথাটা শুনে কি একটু ঘাবড়ে গেলেন? ভাবছেন ফুসফুসের সঙ্গে রাস্তার সম্পর্ক কি? না ফুসফুসের সঙ্গে আদি অনন্ত কালেও রাস্তার কোনও সম্পর্ক নেই৷ কিন্তু তাই বলে দূষণ যে কেবল রাস্তা বা পরিবেশেই হবে তেমনও কোনও কথা নেই৷ আপনি কি জানেন প্রতিনিয়ন ধূমপানের ফলে কতটা দূষিত হচ্ছে আপনার ফুসফুস? না, তাই বলে যারা ধূমপান একেবারেই করেন না তারাও কিন্তু দূষণের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কথা ভাববেন না৷ ধূমপান না করেও ফুসফুস বিগড়ে যেতে পারে, আবার অনেক সময় কেউ টানা ৪০ বছর ধরে সিগারেট, বিড়ি খেয়েও দিব্য সুস্থ থাকেন৷ তাই ধূমপান করুন আর নাই করুন ফুসফুস দূষিত হতেই পারে৷ ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে ঝুকি একটু বেশি। তাই প্রতিনিয়ত পরিবেশের পাশাপাশি দূষণমুক্ত রাখতে হবে আপনার ফুসফুসটিকেও৷ ফুসফুস ভাল রাখার উপায় সম্পর্কে কিছু খাদ্যগত উপায় রইল আপনাদের জন্য৷ এগুলি আপন করে নিলে অতি অল্প দিনেই ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে আপনার ফুসফুস৷

 

  • রাতে ঘুমোনোর আগে এক কাপ হার্বাল চা পান করুন৷ এই চায়ের মাধ্যমে আপনার শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বেড়িয়ে যাবে৷ দেহে জমে থাকা টক্সিনই ফুসফুসকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে৷
  • সকালে নাস্তা খাওয়ায় আগে অনন্ত ৩০০ মিলি পানির সঙ্গে ২টি লেবুর রস মিশিয়ে সেটি পান করুন৷
  • আঙুর বা আনারসের রস পান করুন৷ এই দুটি ফলেই থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট যা শ্বাস প্রশ্বাস প্রণালীকে উন্নত করে৷
  • সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মেনুতে যোগ করুন গাজরের রস৷ কারণ গাজরের রস রক্তে ক্ষারের পরিমাণ বৃদ্ধি করে৷
  • লাঞ্চে কলা, নারকেলের শাঁস, পালংশাক খেতে পারেন৷ এই ধরণের খাবারে পটাশিয়াম থাকে যা দেহের বিষাক্ত টক্সিন পরিস্কার করে ফুসফুসকে আরও চাঙ্গা করতে তুলতে সক্ষম৷

ফুসফুস ভাল রাখার উপায়

ফুসফুস ভাল রাখার উপায় সম্পর্কে এবার কিছু অভ্যাসগত নিয়ম, চলুন দেখি সেগুলো কি কি?

শ্বাস নেয়া ও ছাড়ার কাজে ফুসফুসের বিকল্প নেই। বাতাস থেকে অক্সিজেন রক্তপ্রবাহে নেয়া ও রক্তপ্রবাহ থেকে অক্সিজেন বাতাসে ছেড়ে দেয় ফুসফুস। কাজেই সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে ফুসফুসও রাখতে হবে স্বাস্থ্যকর। আর এজন্য কয়েকটি সহজ অভ্যাস গড়ার পরামর্শ।

 

পাকস্থলি থেকে শ্বাস নিন

সাইক্লিংসহ বেশকিছু খেলাধূলায় মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি শক্তিশালী হয়। তবে সমীক্ষায় দেখা গেছে, কিছু ব্যায়ামও নিঃশ্বাসের গতি বাড়াতে পারে। এজন্য দিনে অন্তত পাঁচ মিনিট পাকস্থলি থেকে শ্বাস নেয়ার অভ্যাস তৈরি করুন। এ ধরনের শ্বাস নেয়ার সময়ে ফুসফুসে বাতাস ঢুকবে ও পেট সম্প্রসারিত হয়। এতে আপনার বক্ষ ও উদরের মধ্যবর্তী অর্থাৎ বুকের পাজড়ের ভেতরের পেশি বেশ শক্তিশালী হবে, নিঃশ্বাস গ্রহণ সহজতর হবে। শ্বাস-প্রশ্বাসের হারও বেড়ে যাবে। অক্সিজেনের চাহিদা কমবে।

 

নিয়মিত আপেল খাবেন

ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, অ্যান অ্যাপল এ ডে, কিপ দ্য ডক্টর এওয়ে অর্থাৎ দিনে একটি আপেল খান আর চিকিৎসককে দূরে রাখুন। ঢাকায় এখন সহজলভ্য ফলগুলোর মধ্যে আপেল অন্যতম। শহরের এমন একটি অলি কিংবা গলি খুজেঁ পাবেন না, যেখানে হকাররা আপেল নিয়ে বসে নেই। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচটির বেশি আপেল খেলে মানুষের ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে। এতে শ্বাস গ্রহণের সময়ে বুকে শনশন শব্দের প্রবণতা হ্রাস পায়। অ্যাজমার মতো বেশকিছু রোগ থেকেও আপনি নিরাপদ থাকতে পারবেন।

 

জীবনের উজ্জ্বল স্মৃতিগুলো স্মরণ করুন

হার্ভাডের গবেষকরা ৬৩ বছর বয়সের ৬শ’ সত্তর জন লোকের ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন। প্রায় আট বছর ধরে চালানো এই গবেষণায় দেখা গেছে, ফুসফুসের সক্ষমতার দিক থেকে আশাবাদী লোকগুলো অনেক ভালো আছে। হতাশাপ্রবণতা মানুষের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই, জীবনের সুখের ও উজ্জ্বল দিনগুলোর কথা স্মরণ করুন। এতে আপনার নৈরাশ্য কেটে যাবে, ফুসফুস বেশি বেশি কার্যকর ও সচল থাকবে। ব্রিটেনে আড়াই হাজার লোকের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আপেল খেতে অপছন্দ করেন, তাদের ফুসফুক খুব দুর্বল থাকে। বরং তাদের তুলনায় আপেল খেকোদের ফুসফুসই বেশি কার্যকর।

 

ক্লিনারের গায়ে ক্ষুদ্রাক্ষরে ছাপা নির্দেশনা পড়ুন

গৃহস্থালি ঝকঝকে রাখতে নানা রকম পরিষ্কারের বস্তু বা ক্লিনার ব্যবহার করতে হয়। যেমন অভেন ক্লিনার। এসব ক্লিনার বিষাক্ত হতে পারে। নিঃশ্বাসের সঙ্গে এসব বিষ ফুসফুসে চলে গেলে আপনি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই ব্যবহারের আগেভাগেই ক্লিনারের গায়ে লেখা ক্ষুদ্রাক্ষরের নির্দেশনাগুলো পড়ুন। নির্দেশনায় লেখা থাকতে পারে, ব্যবহারের সময়ে ঘরের জানলা খোলা রাখুন। আপনি তখন নির্দেশনামতো জানালা খোলা রেখে ব্যবহার করবেন। এরকম অন্য কোনো নির্দেশনাও থাকতে পারে। কোনোভাবেই নির্দেশনা অমান্য করে ক্লিনার ব্যবহার করবেন না।

 

শুভ্র ওয়াইন সেবন করুন

সব ধরনের ওয়াইন আপনার ফুসফুসের জন্যে ভালো। বিশেষ করে শুভ্র ওয়াইন, যেটা ফুসফুসের সক্ষমতা বাড়ায় ও স্বাস্থ্যকর রাখে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই ওয়াইনের মধ্যে বেশকিছু পুষ্টিকর উপাদান আছে, তা ফুসফুসের কোষসমষ্টিকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। নিউ ইয়র্কে দেড় হাজারেরও বেশি লোকের ওপর চালানো এক গবেষণায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। শুভ্র ওয়াইন সেবন করে এমন লোকজনের অতীত ও বর্তমান পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সুস্থ ফুসফুসের জন্যে শুভ্র ওয়াইন অপরিহার্য পানীয়।

 

উপসংহারেও ফুসফুস ভাল রাখার উপায় সম্পর্কে আরো কিছু অভ্যাসগত দিক ও খাবারের পরামর্শ

ধূমপান করলে রক্তে নিকোটিনের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। একইসঙ্গে ফুসফুসে ধোয়া জমতে থাকে। ধূমপানে অভ্যস্তরা নিজের ফুসফুস পরিষ্কার করতে পারেন নানা উপায়ে। তবে ধূমপান ছাড়তে পারলে তার থেকে বড় আর অন্য কিছু হতে পারে না।

যদি কোনোভাবেই ধূমপানের নেশা ছাড়তে না পারেন, তাহলে ফুসফুসকে রক্ষার জন্য কয়েকটি উপায় জেনে নিন।

  • যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করুন : প্রাণ ভরে শ্বাস-প্রশ্বাস নিলে শরীর থেকে টক্সিন বেরতে সাহায্য করে। যোগ ব্যায়াম অভ্যাস করলে ফুসফুসকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয়।
  • পুদিনা-তুলসী পাতার ব্যবহার : নানা ধরনের ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে পুদিনা-তুলসী এমনকি বাসক পাতার রস খেতে পারেন।
  • ডায়েটে আনারস : আপনার ডায়েট চার্টে এমন খাবার রাখুন যাতে অনেক বেশি করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ভিটামিন সি রয়েছে। এক্ষেত্রে আনারস বা নানা ধরনের বেরি, পেয়ারা ইত্যাদি ফল দারুন কাজ দেবে।
  • আদার রস : গলা খুসখুস বা সর্দি-কাশিতে যেমন দারুণ কাজ দেয় আদা, তেমনই ফুসফুসের ময়লা পরিষ্কার করতেও এর জুড়ি নেই। একটুকরো আদা মুখে পুরে নিন। এতে দারুন কাজ দেবে।
  • গাজরের রস : গাজরের রস শুধু ফুসফুস নয়, শরীরের নানা দূষিত পদার্থকেও বাইরে বের করে দেয়। প্রতিদিন অল্প করে গাজরের রস খেলে শরীর অনেক চাঙা থাকে।
  • লেবুর রস : শরীর সুস্থ রাখতে লেবুর রসের কোনো জুড়ি নেই। প্রতিদিন একগ্লাস লেবুর শরবত ফুসফুসের সঙ্গে সারা শরীরকে সুস্থ রাখে।
  • গ্রিন টি : নিয়মিত গ্রিন টি খেলে ফুসফুস সুস্থ থাকতে দারুন সাহায্য করে।
  • ডেয়ারিজাত দ্রব্য খাওয়া নয় : যখন ফুসফুসকে পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া চালু করবেন তখন ডেয়ারিজাত কোনো প্রোডাক্ট খাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

ধন্যবাদ …………… ভাললাগলে শেয়ার করুন !