Bangla sms

প্রেমের ইতিহাস গড়লেন এক বিধায়ক – তাও আবার জেল হাজতে

প্রেমের ইতিহাস গড়লেন এক বিধায়ক – তাও আবার জেল হাজতে। সত্য ঘটনার জের ধরেই এ ছোট্ট প্রেমকাহিনি।

জেলজীবনে প্রেমের ভূবন গড়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ভারতের ঝাড়খন্ডের এক বিধায়ক। কেবলই কী প্রেম! স্বল্প সময়ের প্রেম থেকে সরাসরি বিয়ের পিঁড়িতে। এই বিধায়কের প্রেমকাহিনি এখন ঝাড়খন্ড জুড়েই আলোচনায়। বিধায়ক যার প্রেমে পড়েছেন তিনি একজন নার্স।

বিধায়ক জেল থেকে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এলে প্রেমে পড়েন এই নার্সের। আর সেখান থেকেই একেবারে ছাদনাতলায়। পুনরায় ছাদনাতলা থেকে জেলে ফেরত যেতে হবে তাকে।

ঝাড়খন্ডের এই বিধায়কের নাম কমলকিশোর ভগত। গত বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থীকে হারিয়ে লোহারডাগা থেকে বিধায়ক হন। কিন্তু ২২ বছর আগের এক ঘটনায় জেলে যেতে হয় তাকে। ১৯৯৩ সালের ২৮ সেপ্টেম্বরের এক চিকিৎসককে খুনের চেষ্টার মামলায় এ বছরের জুন মাসে তার সাত বছরের সাজা ঘোষণা করে ঝাড়খন্ড হাইর্কোট। তাতে তিনি বিধায়ক পদ হারান।

এরপর তার আবেদনের ভিত্তিতে ঝাড়খন্ড হাইকোর্ট তার বেল মঞ্জুর করে ও রিভিউ পিটিশনে তার সাজা সাত বছর থেকে কমিয়ে পাঁচ বছর করে। সেই সঙ্গে সাত অক্টোবর তাকে ফের আদালতে আত্মসমর্পণ করে পাঁচ বছরের সাজা খাটার নির্দেশ দেয় কোর্ট। জেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালেই তার জীবনের মোড় অন্য দিকে বাঁক নেয়। হাসপাতালে কমলকিশোরের সেবা শুশ্রূষার ভার পড়ে নার্স নিরু শান্তির ওপর। কমলকে ওষুধ খাওয়ানো থেকে শুরু করে সব কিছুই অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করছিলেন নিরু। নিরুর সেবা-যত্নেই মন টলে যায় কমলের। নিরুকে জীবন সঙ্গিনী করার প্রস্তাব দেন তিনি।Love history

কমলকিশোরের পরিবার সূত্র জানায়, রাজনীতিই হল কমলের ধ্যানজ্ঞান। ৪৬ বছর বয়সে বিয়ে করার সময় পায়নি কমল। নিজের বিয়ে নিয়ে কিছু বলতে খুবই লাজুক ছিল কমলকিশোর। তিনি জানতেন তাকে আবার জেলে ফেরত যেতে হবে। তবু মন মানেনি। বিয়ের প্রস্তাব দিয়েই ফেলেন নিরুকে। কমলকিশোর বলেন, ‘কী করে সব হয়ে গেল জানি না।’

কমলকিশোরের রাজনৈতিক দল আজসু-র প্রেসিডেন্ট সুদেশ বলেন, ‘হাসপাতালে বসেই কমলকিশোর নিরুর কথা জানান। বলেন মন দিয়ে ফেলেছি। বিয়ে করতে চাই। কর্মীদের কী মত? আমরা বলি, এটা কী নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন, যে দলের মতামত নিচ্ছেন? মেয়েটি যদি রাজি থাকে তাহলে বিয়ে করে ফেলুন।’

কমলের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেননি নিরু। কমলও আর অপেক্ষা করেনি। ফের জেলে যাওয়ার আগে রোববার বিয়ে করে ফেললেন নিরুকে। সুদেশ বলেন, ‘লোহারডাগায় বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম। ধুমধাম করে আদিবাসী প্রথায় বিয়ে হল কমলের। প্রচুর খাওয়া-দাওয়া হল।’

কাল, বুধবার আবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জেলে ফিরে যেতে হবে কমলকে। তারপর আবার পাঁচ বছরের বিচ্ছেদ। কমলকিশোর জানেন না জেল থেকে বেরোনোর পরে রাজনীতিতে তার ভবিষ্যৎ কী হবে? তবে একটা সুন্দর সাংসারিক জীবন যে তার জন্য অপেক্ষা করে আছেই, সেই ব্যাপারে নিশ্চিত কমল। আর সেই সুখ-স্বপ্নেই কেটে যাবে তাঁর পাঁচ পাঁচটা বছর।