Bangla sms

ভালোবাসার উপহার – তাও মরুভূমি থেকে কেনা

আত্মকাহিনী …… না গল্প, প্রিয় পাঠকবন্ধুগণ, আমার আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর আত্মকাহিনী, বলা যায় ভালোবাসার গল্প । পড়ুন ভাললাগবে।

ঠিক এইরকম: সকালের রোদ ফুটে আছে মরুর পিঠে। বালুময় মরু। বিমানের জানালা দিয়েই দেখলাম সেই রোদ। ধীরে ধীরে কাতার এয়ার লাইন্সের বিমানটি ভূমিতে অবতরণ করছে। দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টা ভ্রমণের ক্লান্তি মুছে ফেলে এক উৎসুক মনে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছি মরুর দেশ কাতার।পুরো বিমানবন্দর ঝলমল করছে। সময়ের ব্যবধানে এখন সকাল এই কাতারে, আর আমরা বাংলাদেশ থেকে বিমানে উঠেছিলাম গভীর রাতে।

আমেরিকা যাওয়ার পথে ট্রানজিটের জন্য আমরা নামলাম বিমান থেকে। আমরা বলতে তেরো জন। ইমিগ্রেশন শেষে এয়ার লাইন্সের ট্রান্সপোর্ট বাসে করে আমাদের বিমানবন্দর থেকে নিয়ে গেল কাতারের রাজধানী কাতার শহরে। এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি বেশ উন্নত। তেলসমৃদ্ধ দেশের একটি। এরা আধুনিক আদলে গড়ে তুলেছে শহর। মরুর বালির পাশে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন চেহারা রাস্তা-ঘাট ও দালান-কোঠা। গাড়িতে যেতে যেতে এই চেহারা অবলোকন করছি। প্রায় ঘণ্টা খানেক পর হোটেলের সামনে আমাদের গাড়ি থামল। পাঁচ তারকা হোটেল। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে পড়লাম কাতার দর্শনে।

আমার সঙ্গে আছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মণিপুরী ভাষার একজন সমরজিৎ রায় সিংহ। মেধাবী মানুষ তিনি। জ্ঞান-গরিমা, সমাজ-রাজনীতি সম্পর্কেও তাঁর ধারণা প্রখর। আমার তাতে সুবিধাই হলো। কারণ ভ্রমণে এবং নতুন জায়গা বিশেষ করে বিদেশ বিভূঁইয়ে একজন উপযুক্ত সঙ্গী হলে ভ্রমণটা বেশ আনন্দের হয়। সমরদা সেরকমই একজন। হোটেলে আমাদের পাশাপাশি রুম দিয়েছে। দু’জন মিলে বেরিয়ে পড়লাম। আগে জানতাম না যে, আমাদের হোটেলের পাশেই বাংলা বাজার আছে। বাংলা বাজার বলতে কাতারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের গড়ে তোলা একটি বাজার, যেখানে বাংলাদেশের শাক-সবজি থেকে শুরু করে অনেক কিছুই পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা একটি ছোট্ট বাংলাদেশ এই জায়গাটি। সে বিষয়ে পরে আরেকটি বয়ান করা যাবে।

আমরা হাঁটতে হাঁটতে ট্যাক্সি খুঁজছি কিন্তু পাচ্ছি না। আমি বললাম, সমরাদা চলুন হেঁটে হেঁটে যতটা পথ যাওয়া যায়, ততটাই ঘুরে আসি। তিনি রাজি হলেন। হাঁটতে থাকলাম। কিন্তু বাঁধাটা হলো রোদের তাপ ও গরম। ফুটপাত ধরে হাঁটছি। বেশ কিছু দূর যাওয়ার পর দেখলাম কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক। ওদের গায়ের রং শ্যামলা, দেখে আমার একটু কৌতূহল হলো। একটু এগিয়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কি বাংলাদেশি?

ওদের একজন এগিয়ে এসে আমার কথার উত্তর দিযে বলল, জি। ওর চোখে-মুখে দেখলাম আপনজনকে কাছে পাওয়ার দারুণ অভিব্যক্তি। বলল, আপনারা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন?

বললাম, হ্যাঁ। জিজ্ঞেস করলাম, কতদিন আছো এখানে?

বলল, প্রায় সাত বছর। দেখলাম, তার সারা শরীরে ঘাম। বলল, খুব কষ্টের জীবন এখানে। এতো তাপমাত্রায় কাজ করা কঠিন। এই ক্ষণকালে একটু সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কিইবা করার আছে আমাদের?

ওকে জিজ্ঞেস করলাম, কোনদিকে গেলে আমরা কিউট জায়গাগুলো অল্প সময়ে দেখতে পারবো? ও আমাদেরকে লোকেশন দেখিয়ে দ্রুত চলে গেল। যাবার সময় বলল, মালিক পক্ষ দেখে ফেললে, সমস্যা হবে। আমরা ওকে বিদায় দিয়ে হাঁটতে শুরু করলাম সমুদ্র পাড়ের দিকে। প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে কাতারের পার্লামেন্ট ভবন ও আমীরের বাস ভবনের মাঝখান দিয়ে সমুদ্রের পাড়ে গেলাম। যাওয়ার সময় নান্দনিক ভবন দুটি খুব কাছে থেকে অবলোকন করলাম। সবুজ ঘাসের চত্বর, বাগান আর প্রাসাদসম বিল্ডিং দেখতে দারুণ লাগল। আমরা সিকিউরিটির সঙ্গে কথা বলে একটু জানার চেষ্টা করলাম কিন্তু বিপদ হলো ওরা ইংরেজি জানে না, আরবিতে বলার চেষ্টা করলো, আমরা কিছুটা বুঝলাম, কিছুটা বুঝলাম না।

Qatar

ইশারায় আমাদের বলল, সামনে সমুদ্রের পাড় আছে, আমরা যেন সেই দিকে যাই এবং এনজয় করি। সালাম দিয়ে সামনের দিকে হাঁটতে থাকলাম। আমাদের বাম পাশেই পার্লামেন্ট ভবনটিও সুন্দর। এই ভবন দুটি থেকে আমরা সামান্য এগিয়েই দেখা পেলাম সমুদ্রের। পাড় বাঁধাই করা ছোট্ট পরিসরের সৈকত। দেশি-বিদেশি বেশ কিছু পর্যটক, ভ্রমণকারী ও বেড়াতে আসা লোকদের দেখলাম। কয়েকজনকে দেখলাম হাঁটছেন, ব্যায়াম করছেন এবং দৌড়াচ্ছেন। আমরা হাঁটতে হাঁটতে পেয়ে গেলাম কয়েকজন বাংলাদেশী বাঙালিকে। একজনের সঙ্গে পরিচয় হলো, ওর বাংলাদেশের বাড়ি যশোরে, প্রায় আট বছর যাবৎ কুয়েতে থাকে। আজ তার সাপ্তাহিক ছুটির দিন, সেজন্য বউ এবং চার বছরের একমাত্র পুত্রকে নিয়ে বিকেলের মনোরম আলোয় সমুদ্র পাড়ে বেড়াতে এসেছেন।

বললাম কেমন লাগে এই দেশে?

বলল, খারাপ না। প্রথম দিকে অনেক কষ্ট হয়েছে, প্রচুর পরিশ্রম করেছি। প্রচণ্ড গরম এখানে। এই যে এখনও দেখছেন, কি রকম গরম! কিছু তো করার নেই। দেশেও চাকরি বাকরি নেই। তাই কষ্ট মেনে নিয়েই চলছি। দেশে প্রতি মাসে কিছু টাকাও পাঠাই।

ওর সঙ্গে আমরা হাঁটছি আর কথা বলছি। সেও আমাদের দেখে আনন্দিত বলে মনে হলো। আমাদের জিজ্ঞেস করল, দেশের কথা, ঢাকার কথা। আমরা জানতে চাইলাম, এখানকার প্রকৃতি-পরিবেশ, মানুষ, খাদ্য-দ্রব্য, জীবন-যাপন, ভাষা সমস্যা, অর্থনৈতিক অবস্থার কথা।

বলল, এই জায়গাটিই হলো কাতারের সুন্দর এলাকা। হাত দিয়ে দেখিয়ে বলল, সমুদ্রের ওই পাড়েই কুয়েত। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে দেখলাম অনেকগুলো বড় বড় জাহাজ যাতায়াত করছে। সৈকতজুড়ে বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। স্পিড বোট নিয়ে বেশ কিছু ছেলেমেয়ে দারুণ আনন্দ করছে। তারপর আবারও হাত উঠিয়ে আমাদের দেখাল, সমুদ্র পাড়ে বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য গড়ে তোলা আধুনিক শহর। যেখানে পাঁচ-ছয় ও সাত তারকা হোটেল, কনফারেন্স সেন্টার থেকে শুরু করে বিনোদনের নানা সুযোগ-সুবিধা।

ইতিমধ্যে সন্ধ্যার ছায়া আমাদের ঘিরে ফেলেছে এবং পাশাপাশি জ্বলে উঠেছে নিয়ন বাতিগুলো। রৌদ্রের তাপ নেই বলে, রাতের হালকা শীতল বাতাস বইছে-জানাল সেই প্রবাসী বাঙালি। দেখলাম নিয়নের আলোয় ধীরে ধীরে ঝলমল করে উঠছে শহর। সময় অভাবে ওই দিকটায় আর যাওয়া হলো না। ওর কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমরা অন্য সড়ক ধরে ফিরতে শুরু করলাম হোটেলের দিকে। এই এলাকাটিও বেশ আধুনিক ধাচে গড়ে উঠেছে। রাস্তা-ঘাট বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমরা হাঁটতে হাঁটতে একটা মার্কেটে ঢুকলাম। প্রবাসী বাঙালির কাছে আগেই জেনেছি এটি কাতারের বেশ নামকরা মার্কেট। মনে মনে ভাবলাম, পুরো আরব অঞ্চলেই কি এ রকম- অর্থাৎ এসি মার্কেট তো বটেই, এখানে বিদেশি জিনিসপত্রের পাশাপাশি তাদের নিজস্ব কিছু পণ্য ও দ্রব্যাদির সমন্বয়ে এক ধরনের আলাদা চিত্র চোখে পড়ে। এর আগে মাস্কাট ও বাহরাইনেও দেখেছি একই রকম দৃশ্য। যেমন খাবার-দাবার, বোরখা, জায়নামাজ, টুপিসহ অন্যান্য পোশাক-আশাকে অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য ধরা পড়েছে।

আমরা ঘুরে ঘুরে দেখলাম, কাঁচা বাজার এবং শুকনো বাজারও। কৌতূহল নিয়ে ফুটপাতের একটি দোকানে খাবারের জন্য বসলাম। দোকানটি যেমন ধরা যাক বাংলাদেশের ফুটপাতের কোনো পিঁয়াজু, আলুর চপ বিক্রি হয় এমন। কিন্তু খাওয়া হলো না, কারণ ডলার ভাঙানো গেল না। ঢুকলাম একটি মেয়েদের রকমারি জিনিসপত্রের দোকানে। আরবীয় সব জিনিসপত্র। ওখান থেকে বেরিয়ে আমরা আমাদের হোটেলের দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। তখন স্থানীয় সময় রাত ন’টা বাজে। আগেই বলেছিলাম আমাদের হোটেলের পাশেই প্রবাসী বাঙালিদের জমজমাট আড্ডাখানা। একটি মার্কেটের পাশেই লনের মতো খোলা জায়গা, একদিকে বড় রাস্তা ও অন্যদিকে গলি রাস্তা। রাস্তার দু’পাশে বাঙালিদের বাজার, দোকান। যেখানে লালশাক থেকে শুরু করে সব সবজি- তরিতরকারি, আটা-ময়দা, সাবান তেল কি নেই- সব আছে। পিঁয়াজু, পুরি, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলা ভাজা হচ্ছে, সবাই নিচ্ছে খাচ্ছে। চা খাচ্ছে আড্ডা দিচ্ছে। দারুন বাংলাদেশ!

মনে হলো ঢাকারই কোনো এলাকার চেহারা। সবাই বাংলায় কথা বলছে, কেনাকাটা করছে আড্ডা দিচ্ছে- দারুন লাগল দেখতে। আমরাও পিঁয়াজু-চা খেয়ে যখন হোটেলে ফিরবো তখনই পিছন থেকে একজন ডাক দিল শিহাব, আপনি কেমন আছেন?

আমি তো অবাক! তাহলে কাতারেও পরিচিতজন পেলাম। কাছে এসে বলল, কেমন আছেন? আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম, টিএসসিতে আবৃত্তি করতাম ইত্যাদি ইত্যাদি। কিছুক্ষণ কথা বললাম, ভালই লাগল। এরপর ফিরে এলাম হোটেলে। নিচেই রেস্টুরেন্ট। রাতের খাবার শেষ আমরা উঠে গেলাম উপরে যার যার কক্ষে। কিছুক্ষণ পর আমার কক্ষে নক করলেন সমরদা। বললেন, চলুন কিছুক্ষণ আড্ডা দেয়া যাক। আমি সায় দিলাম। বসলাম তার কক্ষে। আমাদের ফ্লোরে আমেরিকাগামী আরো দুজন বাঙালি যাত্রী। একজন ছাত্রী, ও যাবে ওয়াশিংটন। ওর ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল আটটায়। আরেকজন রয়েছেন যিনি পুরান ঢাকার নারী, সাবেক কমিশনার, যাচ্ছেন নিউইয়র্কে। আমাদের ফ্লাইট স্থানীয় সময় সকাল সাতটায়। সকাল সোয়া ছ’টায় এয়ার লাইন্সের গাড়ি আসবে, সুতরাং তাড়াতাড়ি উঠতে হবে। তবু আড্ডা জমলো রাত গভীর পর্যন্ত। দু’জন নারী, দুজন পুরুষ- আড্ডার বিষয় বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে শুরু করে আমেরিকা দেখার প্রথম স্বপ্ন। তবে মেয়েটি যাচ্ছে পড়াশোনা করতে। ওর মনটা একটু ভারী, কারণ আঠারো-উনিশ বয়সের মেয়েটি বাবা-মা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে প্রথম যাচ্ছে বলে, চোখে মুখে সেই মনোবেদনার ছাপ লক্ষ করলাম। বলল, আমার জন্যে দোয়া করবেন। মেয়েটিকে খুবই মেধাবী ও স্মার্ট মনে হলো।

পরদিন সকালে উঠে কোনো রকম নাস্তা সেরে এয়ার লাইন্সের গাড়িতে উঠলাম। গাড়ি ছুটে চলল বিমান বন্দরের দিকে। সকালের নরম রোদ হলেও, বাইরে তাপ অনেক প্রখর। গাড়ি থেকে নেমে ইমিগ্রেশনে দেখা হলো হাসান আজিজুল হকসহ ভ্রমণসঙ্গীদের সঙ্গে। বিমানবন্দরটি বেশ সুন্দর। বিভিন্ন দেশ থেকে বিমান ওঠা-নামা করছে। ওমানের মাস্কাটের মতই একটা ইমেজ বা ফ্লেবার পেলাম এই বিমান বন্দরেও। তবে কাতারের মানুষ আরবিতেই কথা বলে, ইংরেজিও আছে। ইমিগ্রেশনজুড়ে নানা দেশের মানুষ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশী, ভারতীয়, আফ্রিকান, শ্রীলঙ্কান, নেপালি ও আরবের অধিবাসীরাও। ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে পুনরায় বিমানে উঠে উড়াল দিলাম আটলান্টিকের দিকে। সুদূর আমেরিকার উদ্দেশ্যে। নিচে ও ধীরে ধীরে পিছন হয়ে গেল রোদেভরা কাতার বিমানবন্দর। মনে পড়ল রবীন্দ্রনাথের বলাকা কাব্যের কথা- যেন আমরা যাচ্ছি দূর থেকে সুদূরে। উপরের নীলাকাশ, সাদা মেঘের রাজ্য আর অনন্ত কুয়াশায়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য : দুই বছর পর আমেরিকা থেকে ছুটিতে আসার পথেও এই কাতার বিমান বন্দরটিই ট্রানজিট ছিল ঘণ্টা তিনেকের। সেদিন দেখা হলো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে, যিনি এই বিমান বন্দরটি ব্যবহার করে যাচ্ছেন মস্কোতে। তাঁরও সময় ছিল ঘণ্টাখানেক। ইমিগ্রেশনের পাশে বসেই অনেকক্ষণ আলাপ হলো, আড্ডা হলো এবং দুজনে মিলে ঘুরে ঘুরে দেখলাম ডিউটি ফ্রি শপিং সেন্টারগুলো। এরপর তিনি তাঁর বিমান ধরে চলে গেলন। আমার হাতে আরো ঘণ্টাখানেক সময় ছিল, হাতে ছিল সোয়াশ’ ডলারের মতো, তাই ভাবলাম কিছু চকোলেট আর একমাত্র বউটির জন্য নিয়ে যাই একটি সোনার আংটি। ঠিক একশ’ ডলারই লাগল। কিনলাম এবং দেশে ফিরে পরিয়ে দিলাম তার ফর্সা হাতের মধ্য আঙুলে, যেটি এখনও সে পরে আছে। একেই বলো ভালোবাসার গল্প আর ভালোবাসার উপহার কার না ভালো লাগে?