Bangla sms

ইসলামে যৌতুক এর কোন স্থান নেই – একটু খেয়াল করুন

ইসলামে যৌতুক কতটুকু গ্রহণযোগ্য নাকি ইসলামে যৌতুকের কোন স্থান নেই, একটু খেয়াল করে পড়ুন:- নির্যাতনের ফলে প্রতিনিয়তন প্রাণ নিতে হচ্ছে কতই না নারীর। অথচ ইসলাম ও বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) বিশ্বব্যাপী নারী সমাজের মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার এক জীবন্ত আদর্শ স্থাপন করেছেন। মানব মন ও মানব সমাজে নারী প্রগতির গোড়াপত্তন করে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন। ইসলামে নারীর স্বাধীন মত প্রকাশের মৌলিক বাকস্বাধীনতা আছে। নর-নারী উভয়ে আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে স্বীকৃত এবং কর্মফল অনুযায়ী স্বর্গ লাভের সমঅধিকার প্রাপ্য। যেভাবে পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক ঘোষনা করছেন, তিনি তোমাদের এক-ই সত্তা হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার জীবনসংঙ্গিনীকে একই উপাদান হতে বলেছেন (সুরা নিসা, আয়াত-১)। অপর এক স্থানে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, যে ব্যক্তি মোমেন অবস্থায় সৎকর্ম করবে সে পুরুষ হোক বা নারী সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'(সূরা মোমেন- আয়াত: ৪০)। ইসলামের কষ্টিপাথরে নারী পুরুষের মর্যাদা ও অধিকার তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষন করলে দেখা যায়, ইসলাম নারীকে শুধু পুরুষের সমঅধিকার নয় বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষ থেকে নারীকে অধিক মর্যাদা দিয়েছে। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত ঘোষনা করে ইসলাম নারী জাতিকে সর্বোত্তম মর্যাদায় ভূষিত করেছে। যে মর্যাদা পুরুষকে দেয়া হয়নি। ইসলামে একজন নারী একজন পুরুষের চেয়ে তিনগুন বেশি শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তি ও মর্যাদার অধিকারী। পারিবারিক জীবনে সংসার পরিচালনার ক্ষেত্রে নারীর ওপর পুরুষের প্রাধান্য থাকলেও সার্বিক মূল্যায়নে ইসলাম নারী জাতিকে পুরুষের অধিক মান-মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন, যা অন্য কোনো ধর্ম বা জাতিতে করেনি। ইসলাম পর্দা প্রথাকে নারী-পুরুষের মধ্যে কোনো শ্রেণিগত পার্থক্য বা বৈষম্য সৃষ্টি করেনি।

Islam is not acceptable dowry

আমরা যদি মুসলিম পারিবারিক আইনের দিকে লক্ষ্য করি সেখানেও যৌতুককে কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যৌতুক একটি কুসংস্কার এবং জঘন্যতম প্রথা। ইসলামি বিধানে কখনো এ জঘন্যতম প্রথাকে সমর্থন করে না। যেমন ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত মুসলিম পারিবারিক আইন কানুনে উল্লেখ রয়েছে ইসলামে পণ প্রথার বিধান নেই। পাত্র বা পাত্রী কোনো পক্ষই বিবাহের পূর্বে পাত্র বা পাত্রী পক্ষের নিকট হইতে টাকা-পয়সা, আংটি, ফ্রিজ, মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ইত্যাদি গ্রহণ করা বা লইবার চুক্ত করা উচিত নহে। ইসলামি শিক্ষা মোতাবেক বিবাহে কোনো পক্ষই অপরের কাছে আল্লাহ তা’য়ালা এবং তার রাসূলের দাবিগুলো ব্যতিরেকে অন্য কোনোরূপ দাবি দাওয়া করতে পারবে না।

আমরা যদি নিজেকে মুসলমান এবং শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত বলে দাবি করি তাহলে আমাদের বিয়ে শাদিতে হযরত রাসূলে কারিম (সা:) এর শিক্ষা এবং তার আদর্শ অনুসরণ করা উচিত সেই সঙ্গে আমাদের ইসলামি নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। মুখে বলব মুসলমান আর করব অনৈসমানিক কাজ তা হতে পারে না। সমাজে যৌতুকের যে প্রচলন তার বিপক্ষে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে এবং যারা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা দরকার। আর এমন বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা যদি কেউ যোগদান না করি তাহলে তাদের মাঝে একটা লজ্জা কাজ করবে। যার ফলে অন্যরাও এ বিষয়ে সতর্ক থাকবে। মহান আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে প্রকৃত ইসলামের শিক্ষা ও নিয়ম-নীতি অনুযায়ী চলার তৌফিক দান করুন, আমিন।

-মাওলানা মুবিনুল হক